বিজ্ঞানের টুকরো সন্দেশ – ৩

৪. সুইচ অফ করার পরও CFL বাল্ব গুলো কেনো জ্বলে ?

 

সিএফএল বাল্ব গুলো এক ধরনের ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব । এটার টিউবের মধ্যে থাকে আর্গন আর সামান্য মার্কারি বাষ্পের একটা মিশ্রণ । বিদ্যুৎ যখন এর মধ্য দিয়ে যায় , তখন গ্যাসগুলো এক্সাইটেড ( উত্তেজিত ) হয় এবং একসময় আল্ট্রাভায়োলেট রশ্নি তৈরী করে ।
টিউবের দেয়ালে ভিতরের দিকে থাকে ফ্লুরোসেন্ট / ফসফর এর আবরন । UV Ray যখন এই আবরনে আঘাত/ স্পর্শ করে তখন এখান থেকে ভিজিবল লাইট ( দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ ) চারদিকে ছড়িয়ে পরে ।

আমরা সুইচ অফ করে দিলাম । এর মানে হলো ,আমরা গ্যাস এক্সাইটেশন থামাই দিলাম । কিন্তু এক্সাইটেড গ্যাসগুলো সাথেসাথেই থামবে কেনো ? ওরা আরো বেশ কিছুক্ষন আল্ট্রাভায়োলেট রশ্নি তৈরী করে । ( যেগুলো পরবর্তিতে ভিজিবল লাইটে পরিবর্তিত হয় ) ।

তাছাড়া লাইটের সার্কিটের মাইকা ক্যাপাসিটর আর চোক কয়েল কিছুটা চার্জ সঞ্চয় করে রাখে যা পরে ডিসচার্জ করতে কয়েক সেকেন্ড টাইম নেয়।

আর এজন্যই সুইচ বন্ধ করার সাথে সাথেই CFL বাল্বগুলো আলো নি:সরন বন্ধ করে না !

@Arragon Winner &Nabil Khan


৫. বৈদ্যুতিক পাখায়, গতি কম হলে কম বিদ্যুৎ খরচ হয়,আর গতি বেশি হলে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়।নাকি উভয় ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ একই থাকে??

 

নিউটনীয় যুগের রেজিস্টিভ ফ্যান রেগুলেটর গুলো কোনই বিদ্যুত খরচ কমায় না ।
বাট আধুনিক সেমিকন্ডাকটর সম্বলিত ইলেক্ট্রনিক রেগুলেটর গুলোতে ওয়েভফর্ম চপিং করা হয় ।
উদাহরনস্বরুপ বলা যায় যে , ওয়েভফর্ম 50% চপিং এ পাওয়ার কঞ্জামশান অর্ধেক হয়ে যায় । রেগুলেটর থেকে পাওয়া আউটপুট ওয়েভফর্ম দেখলে বিষয়টা ক্লিয়ার হবে । যেহেত আধুনিক রেগুলেটর এসি সাইন ওয়েভের শুধু কিছু নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্তই লোডে যেতে দেয় ।
ফলে পাওয়ার এর হিসাব করলে ওয়েভফর্ম এর ঐ নির্দিষ্ট যে অংশ পর্যন্ত লোডে তড়িত প্রবাহিত হয় তার হিসাব করতে হবে ।
আর যেহেতু ওয়েভফর্ম চপড হচ্ছে তাই সেইসাথে পাওয়ার , Irms , Vrms ও সর্বোপরি খরচ কমে আসবে ।

বেশ ভাল হয় যদি থিউরি না কপচিয়ে নিজেই বাসার সবক’টা ফ্যান একবার রেগুলেটর দ্বারা ফুল স্পিডে চালিয়ে মিটার থেকে পাঠ নেন অত:পর সবগুলো ফ্যান লো স্পিডে চালিয়ে মিটার থেকে পাঠ নেন।

পাঠ নিলেই বুঝতে পারবেন যে বেশি স্পিডে চালালে বেশি খরচ আর কম স্পিডে চালালে কম খরচ ।

বিদ্র: ইলেক্ট্রনিক রেগুলেটর নিয়েন

@ Hujifa Rafi


৬. খালি চোখে আমাদের সৌরজগতের ৫টি গ্রহ দেখা যায়।
—কোন সময়ে কিভাবে এই গ্রহগুলা দেখা যাবে??

 

বুধ ও শুক্র কে পাওয়া যাবে ভোরবেলা সূর্যোদয়ের আগে পূর্বাকাশে। বুধ অতি নিচে দিগন্তরেখার কাছাকাছি থাকবে তাই একে দেখা যাবে না।শুক্র রাত ৩টার দিকে পূর্বাকাশে উদিত হয়ে ৪:৫০ পর্যন্ত শুকতারা রুপে ভালোমত দেখা যাবে। মঙ্গলকে বলা চলে দেখা যাবে না। সূর্য ডোবার পর একে পশ্চিমাকাশে দিগন্তরেখার কাছে পাওয়া যাবে। ঔজ্জ্বল্য কম তাই দেখা সম্ভব নয়। সূর্য ডোবার পর থেকেই বৃহষ্পতিকে দক্ষিন-পূর্বাকাশে দেখা যাবে। এটি ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠতে থাকে এবং দক্ষিণ আকাশে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠার পর এটি নামতে থাকে এবং রাত ৩:৩০ এর দিকে পশ্চিম আকাশে অস্ত যাবে।শনি পূর্বাকাশে ৯:০০ এর দিকে দিগন্তরেখার উপর উঠবে। এটি দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হতে থাকবে ও ওপরে উঠতে থাকবে। সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত প্রায় ৪:৩০ পর্যন্ত একে দক্ষিণ আকাশে দেখা যাবে।

@ Rafiul Islam

Advertisements

বিজ্ঞানের টুকরো সন্দেশ – ২

৩. ঘুম এবং শুধুই ঘুম


🐸মানুষ কেনো ঘুমায়???

-যুগ যুগ ধরে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেনি। কেউই পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে ঘুমের কারণ বের করতে পারেনি। কেউ বলে, ঘুমালে ক্ষয়কৃত শক্তির পুনরুদ্ধার হয়। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে ঘুমালে মাত্র ৫০ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায় যা এক টুকরো টোস্ট খেলেই পাওয়া যায়।

🐸কেনো ঘুমাবো আমরা?

-আমরা ঘুমাই কারণ এটি বিভিন্ন জ্ঞানীয় দক্ষতা যেমন বক্তৃতা, স্মৃতি, উদ্ভাবনী চিন্তাসহ বিভিন্ন কাজে মস্তিষ্ক স্বাভাবিক রাখে। অর্থাৎ, ঘুম মস্তিষ্ক উন্নয়নে সহায়তা করে।

🐸না ঘুমালে কি হবে?

-ঘুমের ভূমিকা বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে না ঘুমালে কি হবে। না ঘুমালে আমাদের মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করবে না। মেজাজ তিরিক্ষি, বিরক্তি, বিস্মৃতি প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিবে। একরাত না ঘুমালেই উল্লেখযোগ্য হারে মনোযোগ কমে যায়। ক্রমাগত অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে মস্তিষ্কের যে অংশ ভাষা, স্মৃতি, পরিকল্পনা ও সময়বোধ নিয়ন্ত্রণ করে তা দুর্বল হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা যায়, অনিয়মিত ঘুমের ফলে দ্রুত ঘটে যাওয়া ঘটনায় প্রতিক্রিয়া এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়।
না ঘুমানোর ফল শুধু মস্তিষ্কে নয়, মানসিক ও শারীরিকভাবেও পড়ে। এর ফলে মানসিক চাপ ও উচ্চ রক্ত চাপ দেখা দেয়। অনিয়মিত ঘুম স্থূলতার জন্য দায়ী।

🌿ঘুমের ইতিবৃত্ত

ঘুম হচ্ছে মূলত ৯০ থেকে ১১০ মিনিটের পর্যায়বৃত্ত চক্র। ঘুমের দুই বিভাগ।
এগুলো হল:
•চোখের নড়াচড়া সহ এবং
•চোখের নড়াচড়া ছাড়া ঘুম।

📌চোখের নড়াচড়া ছাড়া ঘুমঃ

<<<প্রথম ধাপ>>>
(হালকা ঘুম)

ঘুমের প্রথম ধাপে আমরা আধা ঘুম আধা জাগরণে থাকি। আমাদের পেশীর সক্রিয়তা কমতে থাকে এবং মৃদু ঝাঁকুনি দেখা দিতে পারে। ঘুমের এই প্রথম ধাপে আমরা চাইলে জেগে উঠতে পারি।

<<<দ্বিতীয় ধাপ>>>
( সত্যিকারের ঘুম)

হালকা ঘুমের ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা ঘুমের দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করি। এটি প্রায় ২০ মিনিটের মত বজায় থাকে। নিঃশ্বাসের এবং হৃৎপিণ্ডের গতি কমে যায়। এটি মানুষের ঘুমের বৃহৎ অধ্যায়।

<<<তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ>>>
(গভীর ঘুম)

তৃতীয় ধাপে মস্তিষ্ক ডেল্টা তরঙ্গ নিঃসরণ শুরু করে। এই ধাপে নিঃশ্বাসের এবং হৃৎপিণ্ডের গতি সর্বনিন্ম থাকে।

চতুর্থ ধাপে ছান্দিক নিঃশ্বাস প্রবাহ হয় এবং পেশীতে সামান্য সক্রিয়তা দেখা দেয়। গভীর ঘুমের সময় জেগে উথলে আমরা তাৎক্ষনিক তাল মেলাতে পারি না। কিছুক্ষণ টলায়মান এবং অবুঝ থাকার পর আস্তে আস্তে সব স্বাভাবিক হয়। বাচ্চারা এই ধাপে বিছানায় প্রস্রাব করে, ঘুমের মধ্যে হাটে

📌চোখের নড়াচড়া সহ ঘুম:

ঘুমানোর ৭০ থেকে ৯০ মিনিট পরে চোখের নড়াচড়া সহ ঘুম শুরু হয়। এই পর্যায়ে তিন থেকে পাঁচটি ধাপ থাকে। এই সময় নিজেরা অচেতন থাকলেও মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, মাঝে মাঝে জাগ্রত অবস্থার চেয়েও সক্রিয়। এই সময়ে মানুষ স্বপ্ন দেখে।

এই ধাপে চোখ নড়তে থাকে। নিঃশ্বাস ও হৃৎপিণ্ডের গতি বাড়তে থাকে। এই সময় আমাদের শরীর অনেকটা অবশ থাকে। এই ধাপের পর ঘুমের চক্র পুনরায় শুরু হয়।
কতক্ষণ ঘুমান উচিত?

ঘুমের এমন কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। মানুষে মানুষে প্রার্থক্য থাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময় তাদের জন্য আদর্শ। তবে গবেষণা থেকে জানা গেছে, মানুষ ৫ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমায়। গড় ঘুমের পরিমাণ হচ্ছে ৭.৭৫ ঘণ্টা।

অবশেষে বলা যায়, নিজের ঘুমকে নিজেই চিনুন। চিন্তা করে উপযুক্ত সময় ধরে ঘুমান। তাহলেই শরীর, মস্তিষ্ক ও মন ভাল থাকবে।

@ Atique Shahriar


৫. ব্যাঙের উপর নির্ভর করে প্রেগন্যান্সি টেস্ট

বর্তমানে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার জন্য যে সব টুলকিট ব্যাবহার করা হয় তা তাৎক্ষনিক ফলাফল দেয়। কিন্তু একশ শতকের চেয়েও কিছুটা কম সময় আগে মহিলাদের ব্যাঙের উপর নির্ভর করতে হত।

আফ্রিকান ব্যাঙ যেটা তখনকার সময়ে সারা পৃথিবীতে রপ্তানি করা হত শুধু মাত্র মহিলাদের প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার জন্য। তো কিভাবে করা হত এই পরীক্ষা? প্রথমে ডাক্তার রোগিণীর মূত্র সংগ্রহ করে টেস্টটিউবে রাখতেন । তারপর সে মুত্রভর্তি টেস্টটিউব ব্যাঙ ল্যাবরেটরিতে নিয়ে গিয়ে আফ্রিকান মহিলা ব্যাঙের পেছনের পায়ে মহিলার মূত্রের কয়েক ফোঁটা ইনজেকশান দিয়ে পুশ করে দিতেন। তারপর রোগিণীর জন্য নির্ধারিত একটি পাত্রে ব্যাঙটিকে রাখা হত। সারারাত অপেক্ষা করার পড় ব্যাঙের পাত্রটি নিয়ে একজন টেকনিশিয়ান চেক করতেন ব্যাঙ পানিতে কোন ডিম ছেড়েছে কিনা!! যদি ব্যাঙ ডিম ছেড়ে থাকে তাহলে টেকনিশিয়ান বুঝে নিতেন যে মহিলার মূত্র ব্যাঙ্গটিকে পুশ করা হয়েছিল তিনি তখন প্র্যাগন্যান্ট। যখন কোন মহিলা প্র্যাগন্যান্ট হন তার মূত্র দিয়ে তখন প্র্যাগন্যান্সির জন্য দায়ী যে হরমোন বের হয় সেই একই হরমোনের প্রভাবে আফ্রিকান ব্যাঙের প্রজাতিটা ডিম পাড়ে। রিসার্চাররা এই টেস্টের নাম দিয়েছেন হগবেন টেস্ট।

18447169_1812743228983073_3740616215043848397_n

এই কাজের জন্য ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার ব্যাঙ বিভিন্ন দেশে আমদানি করা হয় আফ্রিকা থেকে।
একসময় হাসপাতালে এর চেয়ে সহজ পদ্ধতিতে প্র্যাগন্যান্সি টেস্ট করা শুরু হয়। ফলে ব্যাঙ গুলো স্থানীয় এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এই কারণে আফ্রিকান এই ব্যাঙ এখন বিশ্বজনীন বাসিন্দা।

২০০৬ সালে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন এই ব্যাঙ বিষাক্ত chytrid ছত্রাক এর বাহক। এই ব্যাঙের বিষাক্ত ছত্রাক থেকে অন্তত ২০০ টী এমপিবিয়ান প্রজাতি এখন বিলুপ্তির মুখে। হয়তো এটা ২০ বছর ধরে তাদের নির্যাতন করার প্রতিশোধ।

@ Fahim Abrar


৬. ম্যাজিক

একটুখানি রসায়ন। হায় হায় এতো আগুন।😭😭

লিখতে লিখতে আগুন

কি আগুনের নাম শুনেই ভয় পেয়ে গেলেন😜 ভয় পাবেন না অন্যকে ভয় দেখান। আচ্ছা কিভাবে তাইতো😞 আসুন একটু ম্যাজিক শিখে ফলি!!

এই ম্যাজিকটির জন্য প্রয়োজন একটি বিকার, নিরেট সরু কাচদন্ড, সাদা ফসফরাসের টুকরো, কার্বন ডাই-সালফাইড, বড় সাদা কাগজ।

একটি বিকারে কিছুটা কার্বন ডাই-সালফাইড নিয়ে তাতে কয়েকটি সাদা ফসফরাসের টুকরো নিয়ে নিরেট কাচদন্ডটি দিয়ে নেড়ে দ্রবণ প্রস্তুত করতে হবে। এবার বিকারের দ্রবণে নিরেট কাচদন্ডটি ডুবিয়ে বড় সাদা কাগজের মধ্যে লিখতে হবে। যেমন-আগুন জ্বালো আগুন জ্বালো। 😜😜😜😜

কথাটি লেখা শেষ হতেই দেখা যাবে লেখার কাগজটির মধ্যে আগুন ধরে গেছে। সবাই চিন্তা করল এটা লেখর জন্যই হয়তে আগুন লেগেছে।😁😁😁😁

ম্যজিকতো শেষ কি কারণটা জানতে ইচ্ছা করলো বুঝি😎😎

আচ্ছা বলেই দিচ্ছি কেন এমন হয়।
ফসফরাস, কার্বন ডাই-সালফাইডে দ্রবীভূত হয়ে দ্রবণ প্রস্তুত করেছে। কার্বন ডাই-সালফাইড উদ্বায়ী বলে দ্রবণ থেকে এটি তাড়াতাড়ি বাষ্পীভূত হয়েছে। সাদা ফসফরাস তখন বায়ুর সংস্পর্শে এসে জ্বলে উঠেছে। এবার বোঝা গেলো তো এটা শুধু রসায়নেরই খেলা।😆😆😆😊😊😊😊😊😆🙈🙊🙉

@ Sagar Dutta

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করাই আমাদের উদ্দেশ্য ।

%d bloggers like this: